এইচভি নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০:৪৩, ৮ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২০:৫৪, ৮ অক্টোবর ২০২৬
সংগৃহীত
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ দশমিক ৭৫ ডলারে পৌঁছায়। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও ৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেড়ে ৯২ দশমিক ২৮ ডলার হয়েছে। উভয় ধরনের তেলের দামই এক সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।
মূলত উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে হামলা বেড়ে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন হতো।
সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে হামলার সংখ্যা বেড়েছে। কাতারের উত্তরে একটি ট্যাংকারে একাধিক প্রজেক্টাইল আঘাত হানার ঘটনাও বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এর ফলে তেল পরিবহনে ঝুঁকি ও বীমা ব্যয় দুটোই বাড়ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় ইসাইয়াস এগিয়ে আসায় তেল উৎপাদনও কমেছে। ঝড়ের কারণে মেক্সিকো উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৫ শতাংশ তেল উৎপাদন এবং ১৬ শতাংশের বেশি প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) বাজারে সরবরাহ বাড়াতে জরুরি তেল মজুত দ্রুত ছাড়ার উদ্যোগ নিলেও তা এখন পর্যন্ত বাজারের উদ্বেগ পুরোপুরি কমাতে পারেনি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কমেছে, যা দাম বৃদ্ধিতে আরও চাপ তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে তেলের দাম আরও অস্থির থাকতে পারে। রয়টার্সের আরেক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হলেও নিরাপত্তা ঝুঁকি ও উচ্চ পরিবহন ব্যয়ের কারণে ব্রেন্টের দাম এখনো ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে রয়েছে।