এইচভি নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮:১৩, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
সংগৃহীত
আগামী ২৫ অক্টোবর বাংলাদেশ সচিবালয়ে একনেকের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভায় প্রকল্প দুটি বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা হবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ৪ হাজার ৮২৯টি সাধারণ ও কার্যক্রম পরিচালনার উপযোগী যানবাহন কিনতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা। অন্যদিকে, বিশেষায়িত ১ হাজার ১টি যানবাহন কেনার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ২ হাজার ২৮০ কোটি ১৪ লাখ টাকা।
২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর পুরো ব্যয় বহন করার কথা সরকারের।
প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, দেশের ৬৩৯টি প্রশাসনিক থানায় বর্তমানে পুলিশের ব্যবহারের জন্য যানবাহন রয়েছে ১ হাজার ২৩৭টি। প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালনে এসব যানবাহন ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে গড়ে প্রতিটি থানায় দুটি করে গাড়িও নেই। বিদ্যমান যানবাহনের প্রায় ৬৪ শতাংশের বয়স ১০ বছরের বেশি।
এ পরিস্থিতিতে নিয়মিত টহল, জরুরি ঘটনায় দ্রুত পৌঁছানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন স্থানে মোতায়েনে সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। নতুন যানবাহন যুক্ত হলে পুলিশের চলাচল সক্ষমতা ও কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষায়িত যানবাহনের প্রকল্পে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের গাড়ি, দুর্গম এলাকায় চলাচলের উপযোগী যান, ভ্রাম্যমাণ কমান্ড সেন্টার এবং অপরাধস্থল পরিদর্শনের জন্য বিশেষ গাড়ি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব যানবাহন জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, প্রত্যন্ত অঞ্চলে অভিযান, মাঠপর্যায়ে সমন্বয় এবং অপরাধ তদন্তে আলামত সংগ্রহের কাজে ব্যবহার করা হবে।
দেশের বিস্তৃত নদীপথে পুলিশের কার্যক্রম জোরদার করতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য স্পিডবোট ও দেশীয় নৌকা কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। নদীপথে টহল, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং জরুরি উদ্ধারকাজে এসব জলযান ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
যানবাহন কেনার পাশাপাশি চালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সাধারণ যানবাহন প্রকল্পে ৬৫০ জনকে হালকা যান চালনা ও মেরামত, ৩০০ জনকে ভারী যান চালনা ও মেরামত এবং আরও ৫০ জনকে যানবাহন মেরামতের প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এ প্রকল্পে রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের সরঞ্জাম কিনতে রাখা হয়েছে দেড় কোটি টাকা।
বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পে ৯১০ জনকে চালনা ও মেরামত বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং আরও ৫০ জনকে মেরামতবিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত ব্যয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২ হাজার ৮০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ২ হাজার ৮৬৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ১ হাজার ৬৬০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।
হকস বে নামের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকল্প দুটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হয়েছে। সমীক্ষায় উভয় প্রকল্পের ব্যয়-সুবিধা অনুপাত ১ দশমিক ০৫ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ সমীক্ষায় ব্যবহৃত অনুমানের ভিত্তিতে প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুবিধা ব্যয়ের তুলনায় সামান্য বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাধারণ যানবাহন প্রকল্পের আনুমানিক নিট বর্তমান মূল্য ১৯ কোটি ২২ লাখ টাকা। বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পের ক্ষেত্রে তা ১৭৬ কোটি ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। দ্বিতীয় প্রকল্পের এ হিসাব ১২ শতাংশ ডিসকাউন্ট রেট ধরে করা হয়েছে।
সাধারণ যানবাহন প্রকল্পের সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব গত ১৫ অক্টোবর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভায় পর্যালোচনা করা হয়। কমিটির সুপারিশের পর বিদেশে প্রশিক্ষণের বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত বিধিবিধান ও অর্থ বিভাগের নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রস্তাবটি সংশোধন করা হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গেও প্রকল্পটি সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ রয়েছে।
অন্যদিকে, পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের পর্যালোচনার পর বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পটি একনেকে বিবেচনার সুপারিশ পেয়েছে।
তবে এখনো কোনো প্রকল্পই চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। একনেকের সিদ্ধান্তের পরই বাস্তবায়নের বিষয়ে চূড়ান্ত অগ্রগতি নির্ধারিত হবে।
প্রকল্প দুটি অনুমোদন পেলে দেশজুড়ে পুলিশের যানবাহন সক্ষমতা বাড়বে। তবে এ বিনিয়োগে জননিরাপত্তা কতটা উন্নত হবে, তা নির্ভর করবে স্বচ্ছ ক্রয়প্রক্রিয়া, প্রয়োজন অনুযায়ী যানবাহন বণ্টন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর ওপর।