ঢাকা, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

১৮ কার্তিক ১৪৩৩, ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

১২০ কোটি টাকার পাইলট প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা

বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনে সহযোগিতা দেবে সরকার

এইচভি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২২:৫৪, ১০ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২৩:০০, ১০ অক্টোবর ২০২৬

বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনে সহযোগিতা দেবে সরকার

সংগৃহীত

মানববর্জ্য, রান্নাঘরের বর্জ্য ও কৃষিজ অবশিষ্টাংশ থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গবেষণাগারে এ প্রযুক্তির পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এসেছে। এবার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা যাচাইয়ে পাইলট প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা করছেন গবেষকরা।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রকল্পটির প্রদর্শনী পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী এ আশ্বাস দেন। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ তথ্য জানান।

প্রদর্শনীতে গবেষকরা উদ্ভাবিত প্রযুক্তি, গবেষণার অগ্রগতি এবং দেশে বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের কার্যক্রম ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত হন এবং এটি এগিয়ে নিতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

প্রকল্পটির গবেষক খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. মো. খালেকুজ্জামান মানববর্জ্য, পয়ঃশোধনাগারের বর্জ্য, রান্নাঘরের বর্জ্য এবং কৃষিজ অবশিষ্টাংশ থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের প্রযুক্তিগত দিক ও গবেষণার অগ্রগতি তুলে ধরেন।

গবেষকদের তথ্যমতে, প্রায় ১০ বছর ধরে পরিচালিত এ গবেষণায় ‘হাইড্রোথার্মাল লিকুইফ্যাকশন’ (এইচটিএল) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বর্জ্য থেকে জৈব অপরিশোধিত তেল বা বায়োক্রুড উৎপাদনে অগ্রগতি হয়েছে। গবেষণাগারের পরীক্ষায় ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বায়োক্রুড উৎপাদনের ফল পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ডিজেলসমৃদ্ধ বায়োক্রুড উৎপাদনেও সাফল্য এসেছে।

গবেষণার পরবর্তী ধাপে প্রতিদিন ১ থেকে ৩ টন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণে সক্ষম একটি পাইলট প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্ল্যান্টের মাধ্যমে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা, উৎপাদন ব্যয় এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। প্রস্তাবিত প্ল্যান্ট স্থাপনে আনুমানিক ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

তাদের হিসাব অনুযায়ী, প্রযুক্তিটি বৃহৎ পরিসরে বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণ করা সম্ভব হলে ভবিষ্যতে আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশের বিকল্প হিসেবে এটি ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে বছরে আনুমানিক ৬ হাজার ৫০০ কোটি থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হতে পারে। তবে এ সম্ভাবনা বাস্তবে কাজে লাগাতে প্রযুক্তিটির বৃহৎ পরিসরে কার্যকারিতা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা যাচাই করা প্রয়োজন।

গবেষকদের প্রত্যাশা, সরকারি সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাণিজ্যিক পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব হলে দেশের জ্বালানি সরবরাহে বিকল্প উৎস তৈরি হবে। একই সঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা হ্রাস, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং পরিবেশদূষণ কমাতে প্রযুক্তিটি ভূমিকা রাখতে পারে। এ ছাড়া দেশীয় জ্বালানি শিল্পের বিকাশেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

প্রকল্পটির প্রদর্শনীতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পাবলিক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, কুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাছুদ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন