স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪:৩০, ১৩ জুন ২০২৬
জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানা- ছবি: সংগৃহীত
শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামের লালখান বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় লিশের এক এসআই (উপ পরিদর্শক) সহ ৩ জনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম সংবাদ মাধ্যমকে জানান, সিএনজি অটোরিকশাটির বিরুদ্ধে চোরাচালানের তথ্য ছিল। তবে অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে ভুলত্রুটি হয়েছে পুলিশের, বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, ‘চোরাচালানের তথ্য ছিল অটোরিকশাটির বিরুদ্ধে। তবে এই তথ্য কতটুকু সঠিক যাচাই করা হচ্ছে। আর অভিযান চালানোর আগে নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হয়েছে কি না তা–ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযান কিংবা তল্লাশিতে পুলিশের কিছু নিয়মকানুন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, আপাতদৃষ্টিতে এখানে ভুলত্রুটি রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনা হবে।’
খুলশী থানার ওসি আরিফুর রহমান সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ‘অভিযানের বিষয়ে এসআই শফিকুল ইসলাম আমাকে কিছু জানাননি। থানায় নিয়ে আসার পর ক্রিকেটার নাঈমের পরিচয় জানি। দুঃখ প্রকাশ করে সসম্মানে থানা থেকে তাকে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। তবে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা থানা থেকে যাবেন না জানান। পরে এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।’
ক্রিকেটার পরিচয়েও হয়নি রক্ষা
শুক্রবার রাতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের খেলে রাত ১০টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রামে পৌঁছান ক্রিকেটার নাঈম হাসান। এরপর চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিএনজিতে উঠে বাসার দিকে যাচ্ছিলেন। লালখান বাজারের কাছে পুলিশের এক সদস্য গাড়ি থামিয়ে কয়েকজন ডিবি পুলিশ পরিচয়ে চালকের কাগজপত্র নিয়ে নেন।
নাঈমকেও গাড়ি থেকে নামিয়ে গলা ধাক্কা দিয়ে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়। জাতীয় দলের ক্রিকেটার পরিচয় দিয়ে পরিচয়পত্র দেখান তিনি। এরপরও খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম হাতে থাকা লাঠি দিয়ে পেটান তাকে। সাদা পোশাকে থাকা ব্যক্তিও তাকে হাতে থাকা পাইপ দিয়ে পেটান।
ওই সময় সেখানে জড়ো হন ১০০ থেকে ২০০ মানুষ। তারাও পুলিশের কাছে নাঈমের ক্রিকেটার পরিচয় তুলে ধরেন। জবাবে নাঈমকে পুলিশরা বলেন, ‘তুই আসামি, চুপ থাক, একটা কথাও বলবি না।’
ক্রিকেটার নাঈমের ভাষ্য, সেখান থেকে তাকে অজ্ঞাত স্থানে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করা হয়। এরপর সিদ্ধান্ত বদলে এসআই শফিকুল তাকে থানায় নিয়ে যান। সেখানেও তাকে হেনস্থা করা হয়েছে। এরপর, একপর্যায়ে একটি ফোন পেয়ে ওসি শান্ত হন।