এইচভি নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২:১০, ২৬ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ০৩:৫৪, ২৬ আগস্ট ২০২৬
ক্ষুদে ডেভেলপারদের সঙ্গে বিডিঅ্যাপসের প্রতিনিধি দল- ছবি: বিডিঅ্যাপস
বিডিঅ্যাপসের সর্বকনিষ্ঠ এই ডেভেলপাররা হলেন- তানভীর হাসান ও তাফসীর হাসান।
শরিয়তপুরের বাসিন্দা তানভীর ও তাফসীর। প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই তিন বছর ধরে ইউটিউব, ইন্টারনেটের বিভিন্ন ফ্রি রিসোর্স ব্যবহার করে কোডিং ও অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট শিখছে জমজ ভাই। অভাবের সংসারে মায়ের স্মার্টফোন ব্যবহার করেই বানান তিনটি অ্যাপ। মেধাবী ও সুবিধা বঞ্চিত জমজের প্রতিভা শানিত করতেই এগিয়ে এসেছে বিডিঅ্যাপস।
বিডিঅ্যাপস জানায়, তানভীর ও তাফসীরের বিশেষ প্রতিভার কথা সংবাদমাধ্যমে জানতে পেরেছে রবি আজিয়াটা পিএলসি। তাই, গত ১৩ আগস্ট নিজেদের কর্পোরেট কার্যালয়ে দুই জমজ ভাইকে আমন্ত্রণ জানায় বিডিঅ্যাপস। সেখানে বিডিঅ্যাপস টিমের কাছে নিজেদের তৈরি অ্যাপ, কোডিং শেখার অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যতের স্বপ্নের কথা তুলে ধরেন তারা। তাদের মেধা ও সম্ভাবনা দেখে এই দুই ক্ষুদে প্রতিভাকে প্ল্যাটফর্মটির সর্বকনিষ্ঠ ডেভেলপার হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করে বিডিঅ্যাপস কর্তৃপক্ষ।
গত ১৯ আগস্ট শরীয়তপুরে তানভীর ও তাফসীরের বাড়িতে যায় বিডিঅ্যাপসের একটি প্রতিনিধি দল। দুই ভাইকে নিয়ে আলোচনা ও প্রশিক্ষণ সেশন হয়। সেখানে অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, কোডিং চর্চা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, এআই টুলস ও এআই-চালিত অ্যাপ তৈরির বিষয়ে প্রাথমিক দিকনির্দেশনা দেন বিডিঅ্যাপসের প্রকৌশলীরা। ভবিষ্যতে এআই ও নতুন প্রযুক্তি নিয়ে শেখা এবং কাজ করতে কীভাবে নিজেদের প্রস্তুত করা যায়, সে বিষয়েও তাদের উৎসাহিত করা হয়।
এতদিন মায়ের স্মার্টফোন ব্যবহার করেই শেখা ও অ্যাপ তৈরির কাজ চলছিল। এই পথচলাকে সহজ করতে ও শেখার আগ্রহকে আরও এগিয়ে নিতে বিডিঅ্যাপস দুই ভাইকে দিয়েছে একটি নতুন ল্যাপটপ। পাশাপাশি দেওয়া হয়েছে বিডিঅ্যাপস-ব্র্যান্ডেড উপহার সামগ্রীও। এছাড়া, তাদের শেখার পথকে আরও এগিয়ে নিতে ‘ফুল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট কোর্স’র স্কলারশিপ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কোডিং শেখার সুযোগ পাবে তারা। পাশাপাশি নতুন ডিভাইসের মাধ্যমে আরও স্বাচ্ছন্দ্যে কোডিং অনুশীলন, অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট এবং নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতে পারবে দুই ভাই।
পড়াশোনাতেও দুই ভাইয়ের মেধার স্বাক্ষর রয়েছে। প্রাথমিকে মেধার ভিত্তিতে বৃত্তিও পেয়েছে তারা। ভবিষ্যতে তানভীর ও তাফসীর সফটওয়্যার প্রকৌশলী হতে চায়। আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পাশাপাশি মাইক্রোসফট বা নাসার মতো সংস্থায় অবদান রাখার স্বপ্ন রয়েছে তাদের।
এছাড়া ভবিষ্যতে নিজেদের তৈরি একটি এআই-চালিত অত্যাধুনিক রোবট বানানোর ইচ্ছার কথাও জানিয়েছে এই দুই ভাই।
এ বিষয়ে রবি আজিয়াটা পিএলসির হেড অব মার্কেটিং মোহাম্মদ শওকত কাদের চৌধুরী বলেন, “প্রতিভা বিকাশে সুযোগের সীমাবদ্ধতা কোনো বাধা নয়, প্রয়োজন শুধু সঠিক দিকনির্দেশনা। আমরা চাই, তানভীর ও তাফসীরের মতো কিশোর-তরুণরা অ্যাপ ডেভেলপমেন্টের পাশাপাশি এআই ও নতুন প্রযুক্তিতে নিজেদের ভবিষ্যত গড়ে তুলুক। বিডিঅ্যাপসের এই উদ্যোগ হয়তো তাদের পথচলার একটি ছোট ধাপ। কিন্তু, ভবিষ্যতের বড় উদ্ভাবনের শুরু এখান থেকেই হতে পারে।”
রবি আজিয়াটা পিএলসির ডিজিটাল উদ্যোগ বিডিঅ্যাপস, যা দেশের অন্যতম বৃহৎ অ্যাপ স্টোর ও ডেভেলপার প্ল্যাটফর্ম। বর্তমানে প্ল্যাটফর্মটিতে এক লাখের বেশি ডেভেলপার যুক্ত রয়েছেন, যাদের প্রায় ২৫ শতাংশ নারী ডেভেলপার। নিজেদের তৈরি অ্যাপ প্রকাশের পাশাপাশি ডেভেলপাররা বিভিন্ন টেলিকম এপিআই, সাবস্ক্রিপশন ও অন্যান্য ডিজিটাল সেবা ব্যবহারের মাধ্যমে আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। বর্তমানে বিডিঅ্যাপস প্ল্যাটফর্মে ডেভেলপারদের তৈরি ও প্রকাশিত এক লাখের বেশি অ্যাপ রয়েছে।