এইচভি নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮:৫২, ৩১ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ০৮:৫৩, ৩১ আগস্ট ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় গেন্ডারিয়ার মুন্সিরটেক এলাকায় একটি অফিসের কাছে এ ঘটনা ঘটে। গোলাগুলির সময় ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
গুলিবিদ্ধ তিনজন হলেন চা দোকানি আলমগীর (৩৩), পথচারী সিয়াম (১৮) ও আশা আক্তার (২০)। তাদের মধ্যে সিয়ামের বুকের বাঁ পাশে কাঁধের কাছে, আলমগীরের কপালের মাঝখানে এবং আশা আক্তারের ডান পায়ের রানে গুলি লেগেছে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
দোকানের শাটার বন্ধ করতে গিয়েই গুলিবিদ্ধ সিয়াম
আহত সিয়াম জানান, তিনি যাত্রাবাড়ী এলাকায় থাকেন এবং সেখানে একটি হোটেলে কাজ করেন। রোববার সন্ধ্যায় গেন্ডারিয়ার মুন্সিরটেকে তার ফুফার চায়ের দোকানে বেড়াতে এসেছিলেন। এ সময় হঠাৎ রাস্তার মধ্যে কয়েকজনের মধ্যে মারামারি শুরু হয়।
পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি দোকানের ভেতর থেকে শাটার নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ঠিক সেই সময় বাইরে থেকে ছোড়া একটি গুলি এসে তার বুকের বাঁ পাশে কাঁধের কাছাকাছি লাগে। এতে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
দোকানের ভেতরেও রেহাই মেলেনি আলমগীরের
গুলিতে আহত চা দোকানি আলমগীরের স্ত্রী জান্নাতি আক্তার জানান, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় চায়ের দোকান করেন। সন্ধ্যার দিকে দোকানের সামনে হঠাৎ মারামারি শুরু হয়। একপর্যায়ে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়।
আলমগীর তখন দোকানের ভেতরেই ছিলেন। বাইরে সংঘর্ষ চললেও নিরাপদ থাকার চেষ্টা করছিলেন তিনি। কিন্তু এর মধ্যেই একটি গুলি এসে তার কপালের ঠিক মাঝখানে লাগে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ আশা
আহত আশা আক্তার জানান, তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার সময় তিনি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ সেখানে মারামারি শুরু হলে তিনি পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে যান। একপর্যায়ে এলোপাতাড়ি গুলির মধ্যে তার ডান পায়ের রানে একটি গুলি লাগে।
তবে কারা সেখানে গোলাগুলি করছিল বা তাদের মধ্যে কী নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল—এ বিষয়ে তিনি কিছু জানাতে পারেননি।
আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন
ঘটনার পর আহত তিনজনকে দ্রুত ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, গেন্ডারিয়া থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে, প্রকাশ্য সড়কে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সংঘর্ষের সময় সাধারণ মানুষ কীভাবে গুলির শিকার হলেন এবং কারা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।