এইচভি নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮:৫৯, ৩১ আগস্ট ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কেএম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে গত ২৪ আগস্ট হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়। পরে ২৫ আগস্ট রায়ের জন্য দিন ধার্য থাকলেও তা পিছিয়ে ৩১ আগস্ট নির্ধারণ করেন আদালত।
মামলাটিতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক। আর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিটু শেখের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে ছিলেন হাফিজুর রহমান খান।
যেভাবে ঘটেছিল নির্মম ঘটনা
মাগুরা সদর উপজেলার নিজনান্দুয়ালী এলাকায় গত বছরের ৫ মার্চ রাতে ভয়াবহ এ ঘটনা ঘটে। রমজানের ছুটিতে শহরের ওই এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল আট বছরের শিশু আছিয়া। অভিযোগ অনুযায়ী, বোনের শ্বশুর হিটু শেখ শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার চেষ্টা করেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর নিহত শিশুটির মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করে। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
দ্রুত শেষ হয় বিচার
আলোচিত এ মামলার বিচারিক কার্যক্রমও তুলনামূলক দ্রুত শেষ হয়। ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। এরপর ২৭ এপ্রিল থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মামলায় মোট ২৯ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন।
গত বছরের ৭ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর যুক্তিতর্কের পর্যায়েও দ্রুত অগ্রসর হয় মামলাটি। ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। এরপর ১৭ মে রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান।
রায়ে প্রধান আসামি হিটু শেখকে (৪৭) শিশু ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দেন আদালত।
খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ (১৯), সজীব শেখের ছোট ভাই (১৭) এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম (৪০)।
হাইকোর্টে আসে মৃত্যুদণ্ডের নথি
বাংলাদেশের প্রচলিত আইনি বিধান অনুযায়ী, কোনো বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ড দিলে তা কার্যকর করার আগে উচ্চ আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন। এ কারণে ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর মামলার নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।
মাগুরার ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর গত বছরের ২১ মে মামলার নথি হাইকোর্টে পৌঁছায়। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে মামলার পেপারবুক প্রস্তুতের জন্য তা বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ার পর গত বছরের ৮ জুন তা হাইকোর্টে পাঠানো হয়।
এরপর মামলাটি শুনানির জন্য সংশ্লিষ্ট হাইকোর্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় আসে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ২৪ আগস্ট ডেথ রেফারেন্স ও আসামির করা আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়।
আজকের রায়ে হাইকোর্ট একদিকে যেমন বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন, পরিবর্তন বা বাতিল করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন, অন্যদিকে আসামির আপিলের বিষয়টিও নিষ্পত্তি করবেন।
শিশু আছিয়ার মৃত্যু দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। বিশেষ করে একটি শিশুর ওপর যৌন নির্যাতনের পর তাকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ এবং পরবর্তী সময়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি করে। এখন হাইকোর্টের রায়ের দিকে তাকিয়ে রয়েছে মামলার বাদীপক্ষ ও আসামিপক্ষসহ সংশ্লিষ্টরা।