এইচভি নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০:০৪, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১০:০৫, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নববধূকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। ছবি: সংগৃহীত
ভিডিও বার্তায় নববধূ বলেন, ‘জোর কইরা হউক, নিজের ইচ্ছায় হউক যেভাবেই আইছি, আইছিতো আইছিই। এহন এনেই থাকবাম।’
নিজের সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘আমি যদি এখন যাইও, আমার মান-সম্মান ফিরা আইবো না, আমার বাপ-মার মান-সম্মানও ফিরা আইবো না। তাই আমি এনেই থাকবাম।’
সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি কক্ষে কয়েকজন নারীর সঙ্গে বসে আছেন নববধূ। কক্ষের দরজার কাছে দাঁড়িয়ে রয়েছেন আতিকুর রহমান মিয়াদ—যার বিরুদ্ধে নববধূকে বরযাত্রীর গাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
তবে ভিডিওটি ঠিক কোথায় এবং কখন ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ভিডিও বার্তায় নববধূ যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি কোন পরিস্থিতিতে ধারণ করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত রোববার। ওই দিন হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের হাজিপুর বাজার এলাকায় বরযাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাস থামানো হয়। পরে গাড়ি থেকে নববধূকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে আতিকুর রহমান মিয়াদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগের পর আতিকুর রহমান মিয়াদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও আলোচনা শুরু হয়। তিনি জিনারী ইউনিয়নের চর হাজিপুর গ্রামের বাসিন্দা। হোসেনপুর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব দেলোয়ার হোসেন রাজীব জানিয়েছেন, মিয়াদ ছাত্রদলের একজন কর্মী।
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাফিউল ইসলাম নওসাদ বলেন, বিষয়টি জানার পর সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব শহীদুল্লাহ কাইসার শহীদও ঘটনাটিকে অন্যায় বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর ভাষ্য, মিয়াদ ছাত্রদলের কর্মী হলেও তার কর্মকাণ্ড সমর্থনযোগ্য নয়। নববধূর পরিবার আইনগত পদক্ষেপ নিলে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে হোসেনপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, মামলা না হলেও পুলিশ নববধূকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হলে তার বক্তব্যসহ অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।
ঘটনার পর থেকে আতিকুর রহমান মিয়াদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি এবং অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
তবে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘জীবনে আর কিছু চাওয়ার নাই’ লেখা একটি পোস্ট দেখা গেছে।
নববধূর ভিডিও বার্তা প্রকাশের পর ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে তাকে জোর করে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, অন্যদিকে ভিডিওতে তার নিজের ইচ্ছায় সেখানে থাকার বক্তব্য দুই ধরনের তথ্য সামনে আসায় ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে পুলিশের তদন্ত ও নববধূর আনুষ্ঠানিক বক্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।