এইচভি নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭:৫৬, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৭:৫৮, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে দলীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মানিক সওদাগর তাঁর ভাই নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ তোলেন। একই সঙ্গে যারা তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন, তাঁদের ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
মানিক সওদাগরের ওই বক্তব্যের একটি ভিডিও বুধবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সভাপতি বলেন, বকশীগঞ্জ উপজেলা ও সাতটি ইউনিয়নে বিএনপিকে টিকিয়ে রাখতে গত ১৭ বছর নজরুল ইসলাম সওদাগর ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির নেতা-কর্মীদের পাশে ছিলেন নজরুল ইসলাম।
মানিক সওদাগর বলেন, ‘বকশীগঞ্জের এই বিএনপিকে টিকিয়ে রেখেছে কে? এই ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট আমলে এই সাতটি ইউনিয়নের বিএনপিকে বুকে নিয়ে কে ধারণ করেছে, আপনারা জানেন? সেই বকশীগঞ্জের মেয়র নজরুল ইসলাম সওদাগর।’
নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বর্তমানে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে দাবি করে তিনি আরও বলেন, তাঁর ভাইকে তিনটি হত্যা মামলায় ‘ফাঁসানো হয়েছে’। যারা এ ষড়যন্ত্র করছে, তাদের পরিচয় তাঁরা জানেন বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারলে তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করার কথা বলেন।
মানিক সওদাগর আরও বলেন, ‘একটা লোক যদি বলতে পারে যে এই নজরুল ইসলাম সওদাগরকে দিয়ে আমার একটা ক্ষতি হয়েছে, চ্যালেঞ্জ! আর তাকে ষড়যন্ত্র করে তিনটে মার্ডার মামলায় ফেলানো হয়েছে। কে করেছে, সেটাও আমরা জানি। সেটাও ভিডিও ফুটেজ আছে।’
এ সময় দলের ভেতরে যারা এখনো ‘ভালো হননি’, তাঁদের দ্রুত ভালো হয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান উপজেলা বিএনপির সভাপতি।
যুবলীগে যোগদান, মেয়র নির্বাচিত
বিএনপি দলীয় সূত্রে জানা গেছে, একসময় নজরুল ইসলাম সওদাগর উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০১৫ সালে জামালপুর-১ (বকশীগঞ্জ-দেওয়ানগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের মাধ্যমে তিনি যুবলীগে যোগ দেন। পরের বছর ২০১৬ সালে তাঁকে বকশীগঞ্জ পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক করা হয়।
২০১৯ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বকশীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন নজরুল ইসলাম। এরপর এলাকায় তাঁর একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ ওঠে।
গণঅভ্যুত্থানের পর একাধিক মামলা
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনায় বকশীগঞ্জ থানায় পুলিশ একটি এবং বিএনপির নেতা-কর্মীরা তিনটি মামলা করেন। এসব মামলার বেশির ভাগ আসামিই আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী। তবে ওই সময় করা মামলাগুলোর বেশির ভাগে নজরুল ইসলাম সওদাগরের নাম ছিল না বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ সময় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতা-কর্মী আত্মগোপনে থাকলেও নজরুল ইসলাম এলাকায় অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।
২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি উপজেলার খয়ের উদ্দিন মাদ্রাসা মাঠে উপজেলা ও পৌর বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে কয়েকজন সহযোগীসহ নজরুল ইসলাম উপস্থিত হন। বিষয়টি জানতে পেরে জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
এরপর ওই বছরের ১২ আগস্ট রাতে রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একাধিক মামলায় প্রায় সাত মাস কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্ত হন। বর্তমানে তিনি এলাকায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
‘যা সত্য, তাই বলেছি’
ভাইয়ের পক্ষে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়া এবং হুঁশিয়ারি দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগর বলেন, ‘কি বক্তব্য দিয়েছি? যা সত্য, তাই বলেছি। এটুকুই আমার বক্তব্য।’
তবে তাঁর বক্তব্যকে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী ও নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেছেন জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং জামালপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন।
তিনি বলেন, ‘দলীয় দায়িত্বশীল পদে থেকে এরকম বক্তব্য তিনি দিতে পারেন না। এমন বক্তব্য নিঃসন্দেহে নিন্দনীয় ও ঘৃণ্যতম। আমি তাঁর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে জামালপুর-১ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সময়ে দলীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান জেলা বিএনপির এই নেতা।
নজরুল ইসলাম সওদাগরের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।