এইচভি নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২:৫১, ২২ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২১:৩২, ৯ আগস্ট ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বুধবার দিল্লির পাশাপাশি ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও বড় শহরেও তরুণদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কোথাও পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, আবার কোথাও আন্দোলনকারীদের আটক করা হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে পরিচালিত এই আন্দোলন এখন নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সরকার তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যথাযথভাবে কাজ করছে না। একই সঙ্গে আন্দোলনের সময় পুলিশের বলপ্রয়োগ ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আচরণেরও সমালোচনা করছেন তারা।
বিরোধী দল কংগ্রেসও আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। দলটি সোমবারের ঘটনার জন্য সরকারের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলেছে। কংগ্রেসের এই অবস্থান আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে মঙ্গলবার কয়েক ঘণ্টার জন্য আটক করা হয়েছিল কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে। বুধবার তিনি কালো পোশাক পরে সংসদে উপস্থিত হন। সেখানে তিনি সরকারের জবাবদিহি দাবি করেন এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান।
পরে সাংবাদিকদের রাহুল গান্ধী বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তরুণদের দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করারও আহ্বান জানান তিনি।
তবে আন্দোলন তীব্র হওয়ার মধ্যে মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় পরিস্থিতি সমাধানের আশ্বাস দেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি জানান, সরকার সংস্কারের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এ বিষয়ে সংসদে আলোচনা করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রীর এই আশ্বাসের পরও বুধবার আন্দোলন থামেনি। বরং দিল্লির যন্তর-মন্তরে কয়েক হাজার তরুণের উপস্থিতি দেখা যায়। উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য হরিয়ানা থেকে ভাই ও বন্ধুদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেওয়া ১৯ বছর বয়সী পূজা কুশি বলেন, ‘সরকার আমাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিচ্ছে।’
শুধু দিল্লিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি বিক্ষোভ। মহারাষ্ট্রের মুম্বাই, কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু এবং বিহারের পাটনাসহ বিভিন্ন শহরেও তরুণরা রাস্তায় নামেন। প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাটনায় বিক্ষোভকারীদের সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল ও জলকামান ব্যবহার করেছে।
গুজরাটের আহমেদাবাদেও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেখানে ককরোচ জনতা পার্টির কয়েকজন সমর্থককে আটক করেছে পুলিশ। সমাবেশ চলাকালে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের তর্ক-বিতর্কের ঘটনাও ঘটে।
দিল্লির যন্তর-মন্তরে অবস্থান নেওয়া ২০ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারী, যিনি নিরাপত্তার কারণে নিজের পুরো নাম প্রকাশ করতে চাননি, বলেন, দেশের তরুণরা প্রথমবারের মতো নিজেদের কথা প্রকাশ্যে বলার সুযোগ পেয়েছেন।
এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কাব্য নামের ওই বিক্ষোভকারী বলেন, পুলিশের মারধর ও বলপ্রয়োগের কারণে আন্দোলনকারীদের কেউ কেউ ভয় পাচ্ছেন। তবে আন্দোলন বন্ধ করে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কাব্যের ভাষায়, ‘আমরা থেমে গেলে আবার আন্দোলন শুরু করা কঠিন হবে। ভারতে ভবিষ্যৎ কল্পনা করাও কঠিন। আপনি আওয়াজ তুললেই চুপ করে দেওয়া হবে। এখানে পুরো ব্যবস্থাটাই বদলাতে হবে। রাজনৈতিক নেতাদের তাদের কাজের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।’
আন্দোলনকারীদের দাবি, শুধু আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা না করে সরকারকে তাদের অভিযোগ ও দাবিগুলো নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যদিকে সরকার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সংসদে আলোচনার কথা বলেছে।
তবে শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাস, বিরোধী দলের সমর্থন এবং বিভিন্ন শহরে নতুন করে বিক্ষোভ—সব মিলিয়ে আন্দোলন এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই হয়ে উঠেছে ভারতের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তরুণদের এই আন্দোলন আরও বিস্তৃত হলে তা নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।