এইচভি নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১:১৫, ২৬ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২১:১৮, ২৬ আগস্ট ২০২৬
ছবি- সংগৃহীত
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ ভয়াবহ বন্যা, মৃত্যু ও নিঁখোজের সংখ্যার কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপাল ও চীনের তিব্বতের মধ্যে সীমানার গ্রামগুলোতে উপচেপড়া পানিতে সৃষ্টি বন্যায় ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নিখোঁজ রয়েছে শত শত বিদেশি নাগরিক। এর মধ্যে ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন। ব্রিটিশ নাগরিকদের মধ্যে ১৩ বছরের এক মেয়েও রয়েছেন।
নেপালের টুরিস্ট বোর্ড জানায়, এখন পর্যন্ত ৪০৩ জন লোক নিঁখোজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে ২৬ দেশের ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক।
একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বতেখোশি নদীর বাঁধ উপচে পাশের গ্রামগুলোতে পানি ঢুকে সেতু, বাড়িসহ অন্যান্য অবকাঠামো ধ্বংস করে দিচ্ছে।
দেশটির প্রশাসন এরই মধ্যে সতর্কতা জারি করেছে। বেশ কয়েকটি জেলার বাসিন্দাদের ভোতেকোশি, ত্রিশুলি ও নারাইনি নদীর তীরবর্তী এলাকা ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে।
নেপালের কর্তৃপক্ষ বলছে, ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে ৩৮৪ জন ভ্রমণকারী নিঁখোজ রয়েছেন। এর মধ্যে নিঁখোজ রয়েছেন ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও মালেশিয়া থেকে আসা ২৯১ ভ্রমণকারী ।
দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র দফতর বলছে, নেপালে হাইড্রোপাওয়ার প্ল্যান্টে কাজ করা আটজন এখনো নিঁখোজ রয়েছেন। আর পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন আরো ১০ জন।
ভারত সরকার এরই মধ্যে তাদের নাগরিকদের জন্য জরুরি যোগাযোগ নম্বর প্রকাশ করেছে। যেকোনো উপায়ে নেপালে ভারতীয় দূতাবাসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
এদিকে, বন্যায় সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত ও চীন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের সঙ্গে কথা বলেছেন। ভারত মানবিক সাহায্যের হাত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। এরই মধ্যে ছয়টি জেলায় উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।
নেপাল পুলিশ বলছে, নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে হিমালয় সীমানায় ২২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, নেপাল ও তিব্বত সীমানায় উদ্ধার অভিযানের জন্য আহ্বান করছি। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যেতে পারে।
নেপাল সরকারের মুখপাত্র বলেছেন, বন্যার পরিস্থিতিতে ভারত ও চীনের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
কীভাবে বন্যার সৃষ্টি হলো?
নেপাল ও তিব্বতের কাছে লেহেন্দে নামক নদী রয়েছে। সেখানে ভূমিকম্প হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে সীমান্তবর্তী এলাকায় গাইরং বন্দরে ভূমিধস হয়। এতে বন্যায় রাস্তা, সেতু, বাড়ি ও পাওয়ার প্রজেক্টে আঘাত হানে। বন্যার কারণ নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নেপাল বা চীন কোনো বিবৃতি দেয়নি।