ঢাকা, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

১৯ কার্তিক ১৪৩৩, ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

১৪৪ ধারা প্রত্যাহার

এনসিপির গাড়িবহরে হামলা: ছাত্রদল সভাপতিসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

এইচভি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২০:৩৪, ৩০ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২০:৩৫, ৩০ জুলাই ২০২৬

এনসিপির গাড়িবহরে হামলা: ছাত্রদল সভাপতিসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এদিকে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় জারি করা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা বৃহস্পতিবার সকালে প্রত্যাহার করেছে জেলা প্রশাসন।

বুধবার রাতে এনসিপির পক্ষ থেকে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ক্যাম্পে দেওয়া অভিযোগটি বৃহস্পতিবার সকালে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা হিসেবে রুজু করে পুলিশ। মামলার বাদী হয়েছেন হবিগঞ্জ জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের জুয়েল।

মামলায় শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন ছাড়াও আশরাফুজ্জামান রিয়াদ, আসিফুল ইসলাম ইমন, মোজাক্কির হোসেন ইমন, এম এইচ শিমুল, আল সাইমন, মাহফুজ চৌধুরী, ইসতিয়াক রহমান ইসতি, শেখ সাব্বির, নাজমুল হোসেন অভি ও রক্সি ইসলামকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জ টাউন হলের সামনে থেকে সার্কিট হাউসের দিকে ফেরার পথে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি এবং ৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। হামলায় কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীসহ এনসিপির নেতা-কর্মীরা আহত হয়েছেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার হবিগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করে এনসিপি। একই সময়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দলটির কেন্দ্রীয় নেতা জি কে গউছকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ তুলে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলও পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন।

পুলিশের বাধায় আটকে যায় এনসিপির গাড়িবহর

১৪৪ ধারা চলাকালে বুধবার বিকেলে মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জে যাওয়ার পথে বাহুবল উপজেলার মুছাই বাজার ও কামাইছড়া এলাকায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয় পুলিশ। এ সময় ব্যারিকেড সরানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন এনসিপির নেতারা। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে পুলিশ ও এনসিপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ও টানাহেঁচড়ার ঘটনাও ঘটে।

একপর্যায়ে বৃষ্টির মধ্যেই সড়কে অবস্থান নেন এনসিপির নেতারা। পরে কয়েক দফা আলোচনা ও সমঝোতার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদের সঙ্গে আলোচনা করেন এনসিপির নেতারা। এরপর এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়। অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে বৃহস্পতিবার সকালে তা মামলা হিসেবে রুজু করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

১৪৪ ধারা প্রত্যাহার

এদিকে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জারি করা ১৪৪ ধারা বৃহস্পতিবার সকালে প্রত্যাহার করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি এম সরফরাজ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলছে ছাত্রদল

মামলাটিকে মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন। তিনি বলেন, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা হবিগঞ্জে এসে বিএনপি, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে উস্কানিমূলক ও অশালীন বক্তব্য দিয়েছেন। এতে ছাত্র-জনতার মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সেই ক্ষোভ থেকেই তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।

রিংগন আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় বিএনপি বা ছাত্রদলের কোনো সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা নেই। রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এই মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

অন্যদিকে, এনসিপির পক্ষ থেকে হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

মামলার পর ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে ১৪৪ ধারা প্রত্যাহারের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন