বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ০২:২৬, ১৩ মে ২০২৬ | আপডেট: ০৪:৩৪, ৫ জুন ২০২৬
প্রতীকী ছবি
মামলার শুরুতেই প্যাক্সটন অভিযোগ করেন, ‘আপনি যখন নেটফ্লিক্স দেখেন, নেটফ্লিক্স তখন আপনাকে দেখে।’
মামলার বিবরণী অনুযায়ী, নেটফ্লিক্সকে একটি বিশাল তথ্যের ভাণ্ডার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, কোম্পানিটি ব্যবহারকারীদের দেখার অভ্যাস, পছন্দ-অপছন্দ এবং অন্যান্য সংবেদনশীল আচরণগত তথ্য নিয়মিত ট্র্যাক ও লগ করে রাখে।
একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্যাক্সটন দাবি করেন, নেটফ্লিক্স টেক্সাসের শিশু এবং সাধারণ গ্রাহকদের ওপর নজরদারি চালাচ্ছে। সংগৃহীত এই তথ্যগুলো পরবর্তীতে বিজ্ঞাপনদাতাদের সরবরাহ করা হয়, যাতে তারা গ্রাহকদের লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারে।
মামলায় আরো অভিযোগ করা হয়েছে যে, নেটফ্লিক্স এমন কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করছে যা তরুণ দর্শকদের এই প্ল্যাটফর্মের প্রতি আসক্ত করে তোলে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘অটোপ্লে’ ফাংশন।
শিশুদের প্রোফাইলসহ সব প্রোফাইলে এটি ডিফল্ট হিসেবে চালু থাকে।ফলে, একটি পর্ব শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী পর্ব শুরু হয়ে যায়, যা দর্শকদের দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে আটকে রাখে।
নেটফ্লিক্সের প্রতিক্রিয়া
অভিযোগের জবাবে এএফপি-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে নেটফ্লিক্স জানিয়েছে, ‘এই মামলার কোনো ভিত্তি নেই এবং এটি ভুল ও বিকৃত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে।’
প্রতিষ্ঠানটি আরো দাবি করেছে যে, তারা সদস্যদের গোপনীয়তাকে গুরুত্ব দেয় এবং বিশ্বজুড়ে প্রচলিত ডেটা সুরক্ষা আইন মেনেই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে বর্তমান সিনেটর জন কর্নিনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক লড়াইয়ে যুক্ত আছেন কেন প্যাক্সটন। এই অ্যাটর্নি জেনারেল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘নেটফ্লিক্স যেমন দাবি করে তারা আসলে তেমন বিজ্ঞাপনমুক্ত বা শিশুবান্ধব প্ল্যাটফর্ম নয়। বরং তারা গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করছে।’
এই মামলা চলাকালীন গ্রাহকদের তথ্য সংগ্রহ বা প্রকাশ নিষিদ্ধ করার জন্যও আদালতের নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে। টেক্সাসের ‘ডিসিপ্টিভ ট্রেড প্র্যাকটিস অ্যাক্ট’ লঙ্ঘনের দায়ে প্রতিটি অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত দেওয়ানি জরিমানার আবেদন করা হয়েছে।