এইচভি নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২:৪২, ৭ আগস্ট ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পল্লবী থানার মিরপুর-১১ নম্বরের রোড-২, ব্লক-বি এলাকার একটি চায়ের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত আলমগীর পেশায় মাছ ব্যবসায়ী। তিনি ঢাকার নবাবগঞ্জ থানা বিএনপির মূল দলের সদস্য বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
প্রাইভেটকারে এসে গুলি, অভিযোগ যুবলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে
আলমগীরের চাচা আশিক জানান, ঘটনার সময় আলমগীর মিরপুর-১১ নম্বরের ওই এলাকার একটি চায়ের দোকানের সামনে বসে ছিলেন। এ সময় একটি প্রাইভেটকারে করে কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে এসে তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। হামলার পরপরই তারা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় যুবলীগ নেতা রুবেল ও বাপ্পাসহ চারজন এ হামলার সঙ্গে জড়িত। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গুলিতে আলমগীরের মাথার ডান পাশ, পেটের ডান পাশ ও ডান পায়ে আঘাত লাগে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গুলিতে আহত পথচারী নারী
এ ঘটনায় রাস্তা পার হওয়ার সময় এক নারীও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার সময় ওই নারী ঘটনাস্থলের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকেও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশীর জানান, দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থলে তিন রাউন্ড গুলি ছুড়েছে। এতে বিএনপি নেতা আলমগীর ও এক নারী আহত হয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, গুলিবিদ্ধ দুই ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
গত এক মাসে বিএনপি নেতাদের ওপর হামলা ও গুলির ঘটনায় উদ্বেগ
পল্লবীর এ ঘটনার পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও গুলির ঘটনা নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে দলটির পক্ষ থেকে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
এর আগে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপি নেতা ওসমান গনি দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন। ওই ঘটনায় তার মা আছিয়া বেগমও গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয় বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।
এছাড়া রাজধানীর মিরপুর-পল্লবী এলাকায় রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এর আগেও গুলির ঘটনা ঘটেছে। পল্লবীতে আকরাম খান নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলা হয় এবং তদন্তে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করার তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।
রাজনৈতিক সহিংসতার ধারাবাহিকতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, গুলি ও সংঘর্ষের অভিযোগ সামনে এসেছে। বিশেষ করে নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও তদন্ত
বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, দলীয় নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হামলা চালানো হচ্ছে। দলটির নেতারা এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আসছেন।
অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, হামলার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। পল্লবীর ঘটনায় ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়ার কাজ করছে পুলিশ।
পল্লবীর এই গুলির ঘটনা রাজধানীতে রাজনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো—হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।