এইচভি নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭:১৫, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বিলের ওপর আলোচনায় রুমিন ফারহানা বিএনপি ক্ষমতায় এলে গ্যাস-বিদ্যুৎ ও সার সংকট, দুর্নীতি এবং খেলাপি ঋণসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক সরকারের একটি চরিত্র থাকে। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট হবে না, এটা হতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আবার সারের সংকট হবে না, গরিব কৃষক সার কারখানায় গিয়ে সেটা লুট করবেন না, সেটাও হতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে না, সেটাও হওয়া সম্ভব নয়।’
রুমিনের এই বক্তব্যের সময় বিএনপির সংসদ সদস্যরা হইচই শুরু করেন। হট্টগোলের মধ্যেই তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করবে না, সেইটাও হতে পারে না।’
বিএনপির সদস্যদের হট্টগোলের মধ্যে রুমিন বলেন, ‘এত অসহিষ্ণু! মনে হয় যেন এবারে আওয়ামী লীগের আমলে ফিরে গেছি আমরা। আওয়ামী লীগকে যখন বলতাম, তখন তারাও হট্টগোল করত। এখন বিএনপি একই ধরনের আচরণ করছে। আরও খারাপ আচরণ।’
ব্যাংক রেজল্যুশন আইন নিয়েও সমালোচনা
ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে বিএনপি সরকারের সময়ে যুক্ত করা ১৮(ক) ধারা নিয়েও সমালোচনা করেন রুমিন ফারহানা। ওই ধারার মাধ্যমে খেলাপি ঋণে সংকটে থাকা পাঁচটি ব্যাংকে পুরোনো মালিকদের ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিভিন্ন মহলের সমালোচনার পর সরকার বুধবার সংসদে বিল পাসের মাধ্যমে ধারাটি বাদ দেয়।
এ প্রসঙ্গে রুমিন বলেন, ‘এই সংসদে বেশির ভাগ সংসদ সদস্য ঋণখেলাপি হিসেবে পরিচিত। নির্বাচনের আগে নামটা কাটানোর জন্য হাইকোর্টে গিয়ে রিট করা এগুলো আমাদের পুরোনো সংস্কৃতি। এগুলো বহু দেখেছি।’
মাইক বন্ধ হওয়ার পরও চলে হট্টগোল
নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় একপর্যায়ে রুমিনের মাইক বন্ধ হয়ে যায়। তবে সংসদে তখনও হট্টগোল চলছিল। মাইক বন্ধ থাকার পরও তিনি কথা বলতে থাকেন।
এ সময় সরকারি দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাকে উদ্দেশ করে অশালীন শব্দ ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদ জানান বিরোধী দলের কয়েকজন সদস্য।
রুমিন বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করলে ডেপুটি স্পিকার তাকে বসতে বলেন। এ সময় রুমিন ফারহানা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) হান্নান মাসউদকে দাঁড়িয়ে কথা বলতে দেখা যায়। মাইক ছাড়াই হান্নান মাসউদ বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্যকে এভাবে গালি দেওয়া যায় না।’ একই সঙ্গে তিনি বিরোধী দলের অন্য সদস্যদের প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানান।
‘সংসদ সদস্য হিসেবে অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কি না’
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আজকে উনি (রুমিন) কী বললেন, আমরা তো একেবারেই বুঝতে পারলাম না। উনি কি গালি দিলেন, না দোয়া দিলেন কিছুই বুঝলাম না। এখন আসলেই কি তিনি বক্তব্য রাখতে পারলেন? সংসদ সদস্য হিসেবে যে অধিকার ছিল, তা কি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে?’
এ সময় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি সংসদে স্বাস্থ্যকর আলোচনা হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন।
জবাবে ডেপুটি স্পিকার বলেন, একজন সদস্য কথা বলতে পারবেন। কোনো বক্তব্য অসংসদীয় হলে তা এক্সপাঞ্জ করা হবে। তবে কোনো সদস্যকে বক্তব্য দিতে বাধা দেওয়া ঠিক নয়। বৈঠকে শৃঙ্খলা বজায় রাখা চিফ হুইপের দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে বিলের আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বিষয় কী, সেটাই বুঝতে পারছি না। আমি কী বললাম, আলোচনা কী হলো?’