এইচভি নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮:১৭, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুদকের মুখপাত্র আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
দুদকের মুখপাত্র বলেন, সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রীর বিদেশে থাকা অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চেয়ে আবেদন করেছিল দুদক। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এফবিআই যুক্তরাষ্ট্রে তাঁদের থাকা সম্পদের বিস্তারিত নথি ও তথ্য সরবরাহ করেছে।
এফবিআইয়ের নথিতে কী আছে
দুদক সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া তথ্যের মধ্যে ব্যাংক হিসাব, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তিসংক্রান্ত নথিপত্র রয়েছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে সম্পদের মালিকানা, অর্জনের সময়কাল এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করবে দুদক।
বিদেশে সম্পদ থাকা নিজেই বেআইনি নয়। তবে সম্পদ অর্জনের অর্থের উৎস বৈধ কি না এবং দেশে থাকা আয় ও সম্পদের সঙ্গে বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্যের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না—এসব বিষয় অনুসন্ধানের আওতায় আসবে।
প্রয়োজনে দেশে থাকা আয়কর নথি, সম্পদ বিবরণী, ব্যাংক লেনদেন ও ব্যবসায়িক নথির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া তথ্য মিলিয়ে দেখা হতে পারে।
আদানি পাওয়ারের চুক্তিতেও নজর
এদিকে ভারতের আদানি পাওয়ারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়েও অনুসন্ধান জোরদার করেছে দুদক।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, চুক্তির বিভিন্ন পর্যায়ে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা স্বার্থসংশ্লিষ্টতার ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চুক্তি প্রণয়ন, অনুমোদন ও বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকার বিষয়টিও যাচাই করা হচ্ছে।
এই চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্যসচিব ড. আহমেদ কায়কাউসের বিরুদ্ধেও অনুসন্ধানের সুপারিশ করেছে দুদকের সংশ্লিষ্ট টিম।
বিদেশি নথিতে বাড়ছে অনুসন্ধানের গুরুত্ব
বিদেশে থাকা সম্পদ ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বিদেশি ব্যাংক হিসাব, কোম্পানির মালিকানা ও সম্পত্তির নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য সরাসরি যাচাই করা তদন্তকারী সংস্থার জন্য অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।
এ কারণে এফবিআইয়ের কাছ থেকে পাওয়া নথি দুদকের চলমান অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসূত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এসব নথিতে নতুন কোনো আর্থিক লেনদেন, সম্পত্তির মালিকানা বা ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেলে অনুসন্ধানের পরিধি আরও বাড়তে পারে।
দুদক সূত্র বলছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণের পর প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও বিদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে আরও তথ্য চাওয়া হতে পারে।
অভিযোগের সত্যতা এখনো নির্ধারিত নয়
তবে সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তাঁর স্ত্রী রুকমিলা জামান কিংবা ড. আহমেদ কায়কাউসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনো প্রমাণিত নয়। দুদকের অনুসন্ধান ও পরবর্তী তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এফবিআইয়ের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে বিদেশে থাকা সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, অর্থের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়ার চেষ্টা করবে দুদক।
ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা ও সম্পত্তির নথি হাতে পাওয়ার পর সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রীর বিদেশি সম্পদসংক্রান্ত অনুসন্ধান আরও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে।