ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২ আশ্বিন ১৪৩৩, ০৪ রবিউস সানি ১৪৪৮

পতেঙ্গায় কৃষক দলের নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখল ও ব্যবসায়ীদের হয়রানির অভিযোগ

এইচভি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭:০৯, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ০৭:০৯, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পতেঙ্গায় কৃষক দলের নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখল ও ব্যবসায়ীদের হয়রানির অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম মহানগরীর উত্তর ও দক্ষিণ পতেঙ্গা এলাকায় চাঁদাবাজি, দখল ও ব্যবসায়ীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলমগীরের বিরুদ্ধে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বিভিন্ন ব্যবসা ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে তার নামে চাঁদা দাবির অভিযোগ করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ।

অভিযোগ রয়েছে, বাদাম বিক্রেতা থেকে শুরু করে বড় ব্যবসায়ী, জেলে, হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ী, টমটমচালক, ট্রাক ও লরিচালক—বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাঠ, ঘাট, ঘর ও চর দখলের অভিযোগও রয়েছে। মালিকানাধীন জমিতে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে চাঁদা আদায়ের কৌশল নেওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয় কয়েকজন।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, চাঁদা না দিলে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। তবে অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনেকে ভয় পান। কয়েকজন ভুক্তভোগী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগও করেছেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আলমগীরের সঙ্গে এসব কর্মকাণ্ডে তার ভাই স্বেচ্ছাসেবক দলের পতেঙ্গা থানা সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম এবং পতেঙ্গা থানা ছাত্রদলের সভাপতি রাব্বী হোসেন রিমনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

খেয়াঘাট দখলের অভিযোগ

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর ১১ নম্বর খেয়াঘাটে নজর পড়ে আলমগীরের লোকজনের। ওই ঘাটটি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে একসনা ইজারা নিয়ে খাস কালেকশনে নিয়োজিত ছিলেন মিজানুর রহমান ও তার সহযোগীরা।

মিজানুর রহমানের অভিযোগ, আলমগীরের লোকজন তার কর্মীদের মারধর করে ঘাট থেকে সরিয়ে দেন এবং পরে সেখানে নিজেদের লোকজন বসিয়ে আদায় করা অর্থ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন। তার দাবি, ওই সময় প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা করে আদায় করা হতো।

ইজারাদারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় ছয় মাস পর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতি বৈদ্য সেখানে অভিযান চালান। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে আটক করা হয়।

মিজানুর রহমান বলেন, পরে আলমগীর খেয়াঘাটের দখল ছেড়ে দেওয়ার মুচলেকা দিয়ে আটক ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে আনেন। তার দাবি, ছয় মাসে ঘাট থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা আদায় করা হয়েছে।

হোটেল ব্যবসায়ীদের কাছেও চাঁদা দাবির অভিযোগ

পতেঙ্গা ও নেভাল এলাকায় পর্যটনকেন্দ্রিক ১৬টি হোটেল থেকেও চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, আলমগীরের লোকজন বিভিন্ন সময়ে হোটেলে গিয়ে চাঁদা দাবি করতেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হোটেলে তালা দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি হোটেলের কাছে এককালীন ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা এবং মাসিক ৫ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করা হয়। ব্যবসা চালু রাখার স্বার্থে বেশির ভাগ হোটেল মালিক ওই দাবি মেনে নিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

অভিযোগে বলা হয়েছে, এ খাত থেকে এককালীন প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। যেসব হোটেলের নাম স্থানীয় সূত্রে এসেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে বরিশাল হোটেল, সমুদ্র বিলাস, সী-মুন, টানেল ভিউ, পতেঙ্গা টুডে, ডায়মন্ড, স্বপ্ন বিলাস, বেলমন্ড, বিচ ভ্যালি ও বিচ ভিউ।

এ ছাড়া দলীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপলক্ষেও এসব হোটেল থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সম্পদের পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন

স্থানীয়দের কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, গত কয়েক বছরে আলমগীরের জীবনযাত্রায় দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। তাদের দাবি, তিনি একটি বিলাসবহুল পাজেরো জিপ কিনেছেন। তার ভাই জাহাঙ্গীর আলমও ব্যক্তিগত গাড়িতে চলাফেরা করেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

তবে এসব সম্পদ কীভাবে অর্জিত হয়েছে, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য আর্থিক নথি বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন