ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২ আশ্বিন ১৪৩৩, ০৪ রবিউস সানি ১৪৪৮

তিন সাংবাদিককে বিএনপি নেতার মারধর, ‘তোমরা লেখবা, আমরা পিটামু’

এইচভি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮:৫৯, ২৬ আগস্ট ২০২৬

তিন সাংবাদিককে বিএনপি নেতার মারধর, ‘তোমরা লেখবা, আমরা পিটামু’

ছবি: সংগৃহীত

শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তিন সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মোল্লা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সাংবাদিকদের একজনের সঙ্গে কথা বলার সময় আরেক সংবাদকর্মীকে মুঠোফোনে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। কথোপকথনে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘তোমরা লেখবা, আর আমরা তো তোমাদের পিটাবো।’

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

হামলার শিকার সাংবাদিকেরা হলেন ডেইলি স্টারের শরীয়তপুর ও মাদারীপুর প্রতিনিধি জাহিদ হাসান রনি, নিউজ টোয়েন্টিফোরের জেলা প্রতিনিধি বিধান মজুমদার অনি এবং দৈনিক এদিনের প্রতিনিধি বরকত উল্লাহ। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের অভিযোগ, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে আরিফুজ্জামান মোল্লাসহ যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মী তাঁদের ওপর হামলা চালান।

সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, সম্প্রতি কোনো লিখিত নোটিশ না দিয়ে শরীয়তপুর জেলা প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে দেয় জেলা প্রশাসন। এর প্রতিবাদে গত রোববার দুপুরে প্রেসক্লাবের সাংবাদিকেরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘মব সৃষ্টি’র অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ওই কর্মসূচির সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে প্রথমে নিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিনিধি বিধান মজুমদার অনির ওপর হামলা করা হয় বলে অভিযোগ। পরে ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি জাহিদ হাসান রনি ও দৈনিক এদিনের প্রতিনিধি বরকত উল্লাহকেও মারধর করা হয়।

বিধান মজুমদার অনি বলেন, ‘পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে কয়েকজনের সহযোগিতায় কোনোমতে ঘটনাস্থল থেকে নিজেকে রক্ষা করে সরে আসি। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’

জাহিদ হাসান রনি বলেন, ‘আরিফ মোল্লাসহ বেশ কয়েকজন যুবদলের নেতাকর্মী আমাকে মারধর করেন। পরে আমার পরিচয়পত্র ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়ে ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলতে বাধ্য করেন।’

সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগ

সাংবাদিকদের মারধরের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আরিফুজ্জামান মোল্লা মুঠোফোনে এক সংবাদকর্মীকে হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই কথোপকথনের একটি অংশে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘অনেকেই লিস্টে আছে, সন্ধ্যার পর খবর পেয়ে যাবে। তুমি নিজেও তৈরি থাকো, ইনশাআল্লাহ। আছো কোথায়, থাকো, আসতেছি। তোমরা লেখবা, আর আমরা তো তোমাদের পিটাবো।’

এ বিষয়ে আরিফুজ্জামান মোল্লার বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল ধরেননি।

বিএনপি নেতার দাবি

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশের কথা স্বীকার করলেও সেখানে কোনো সাংবাদিক নিগৃহীত বা মারধরের শিকার হয়েছেন কি না, তা জানা নেই বলে দাবি করেছেন শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সহসভাপতি শাহ মোহাম্মদ আব্দুস সালাম।

তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকেরা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করেছেন। তারা এভাবে তাঁর প্রত্যাহার চাইতে পারেন না। সাংবাদিকতার আড়ালে কিছু সন্ত্রাসী ও ফ্যাসিবাদের দোসর বিএনপি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য এমন কাজ করেছেন। এ কারণে আমরা প্রতিবাদ সমাবেশ করেছি। সেখানে কোনো সাংবাদিক নিগৃহীত বা মারধরের শিকার হয়েছেন কি না, তা আমার জানা নেই।’

তদন্তের কথা পুলিশের

শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তানভীর হোসেন বলেন, ‘গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি ইতোমধ্যে জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অন্যদিকে, শরীয়তপুর জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেন সরদার সাংবাদিকদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাচ্ছি।’

ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।
 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন