এইচভি নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১:৩১, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
এরই মধ্যে একই দিনে আগামী তিন মাসের জন্য নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ইবি শাখার ২৮ সদস্যের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এতে আহ্বায়ক করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান হাফিজকে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দিনভর উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কমিটির মেয়াদ শেষে সাংগঠনিক কার্যক্রম ও রাজনৈতিক সক্রিয়তা বিবেচনায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে।
কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে মো. মামুন-অর-রশিদ, আলহাজ আলী শ্রাবণ, তরিকুল ইসলাম তরুণ, রতন কুমার রায়, সামিউল ইসলাম, শাহিন আলম, মামুন রানা, সাব্বির আহমেদ আকিফ, রাব্বি হোসেন, নাছিম হাসান নাঈম, রাসেল আলী, রাকিবুল ইসলাম, সোহানুর রহমান, মেসবাহুল ইসলাম, নাবিল আহমেদ ইমন, মো. সাদিদ খান সাদি, হুসাইন তুষার, অনিক কুমার, সোহাগ শেখ, তানভীর হাসান, রাব্বি হাসান, আকিব মাসুদ, পিয়াস মুস্তাকিম, সাগর আহম্মেদ, মো. রাকিব হোসেন, শাহরিয়ার হিমেল ও পাভেল মোল্লাকে।
যে কারণে সংঘর্ষ
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার দুপুর ১টার দিকে কাজী জুহায়ের হলের করিডোর দিয়ে যাওয়ার সময় একটি কক্ষ থেকে বের হয়ে আলিনূর রহমান নামের এক ব্যক্তি তাঁকে চড় দেন। কী কারণে তাঁকে চড় দেওয়া হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে এর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি।
ঘটনার পর শিবিরের নেতা-কর্মীরা অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মীকে তাঁর কক্ষ থেকে বের করে আনতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, ছাত্র-উপদেষ্টা ও হল প্রভোস্টের উপস্থিতিতে বিষয়টি সমাধানে উভয় পক্ষ আলোচনায় বসে।
আলোচনার সময় অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মীকে নিয়ে আসতে গেলে শিবিরের নেতা-কর্মীরা উত্তেজনা সৃষ্টি করেন—এমন অভিযোগ তুলে ছাত্রদল নেতারা সেখান থেকে বেরিয়ে যান। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে আবারও কথাকাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
পরে অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মীকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে শিবিরের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।
প্রধান ফটকে সংঘর্ষ
এরপর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা হল থেকে বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় স্থানীয় জামায়াতের নেতা-কর্মীরা সেখানে উপস্থিত হলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয় জামায়াতের দুই কর্মী শহীদুল ও বাবলু আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়।
পরে দুই পক্ষকে নিয়ে প্রক্টর কার্যালয়ে আলোচনায় বসে প্রক্টরিয়াল বডি। সেখানে ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তদন্ত কমিটি গঠন
পরে শহীদ জিয়াউর রহমান হলে দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে সংঘটিত ঘটনার তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেন।
কুষ্টিয়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, ‘একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পর বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে পরিস্থিতি যাতে আবার উত্তপ্ত না হয়, সে জন্য পুলিশ সদস্যরা সেখানে অবস্থান করছেন।’
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার বিষয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’