এইচভি নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩:৪১, ২৫ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২৩:৪২, ২৫ আগস্ট ২০২৬
বিদিশা সিদ্দিক- ফাইল ফটো
ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) এম তানভীর আহমেদ গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, প্রতারণার একটি মামলায় বিদিশা দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত ছিলেন। মামলাটিতে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল।
কে এই বিদিশা সিদ্দিক
বিদিশা সিদ্দিক সাবেক স্বৈরস্বাসক ও রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন। ২০০০ সালে হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ ও বিদিশার মধ্যে বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে এরিক নামের একজন ছেলে জন্ম নেন, যিনি অনেকটা মানসিক ও শারীরিকভাবে দুর্বল।
হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের সঙ্গে পরিচয়ের আগে বিদিশা ছিলেন একজন ফ্যাশন ডিজাইনার। হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে সুন্দরী নারীদের প্রতি দুর্বলতা প্রকাশের অভিযোগ অনেক পুরোনো। তিনি আকর্ষণীয় ও সুন্দরী নারীদের প্রতি দুর্বলতা কাজ করার অনেক খবর প্রকাশ্যে এসেছিল। তাদের মধ্যে বিদিশা ছিলেন অন্যতম।
বিদিশার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে বিদিশাকে এরশাদের রাজনৈতিক উপদেষ্টা করেন এবং জাতীয় পার্টির সিনিয়র নেতার মর্যাদা দেন। পরে সেটি বিয়ে ও রাজনৈতিক শক্তিকে গড়ায়। তাদের বিয়ের তারিখ নিয়ে অনেক কানাঘুষা রয়েছে। তবে, এরশাদ জানিয়েছিলেন যে, তারা ২০০০ সালের ২৭ মার্চ বিয়ে করেন। এছাড়া ২০০০ সালের ৩ এপ্রিল বিয়ের কথা শোনা গেছে বিভিন্ন সূত্রে। তাদের বিয়েটির স্থায়ীত্ব ছিল পাঁচ বছর।
বিয়ের পর ২০০৫ সালের ২ জুন এরশাদ দাবি করেন, বিদিশা তার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। তার অভিযোগ ছিল, বিদিশা পিটার স্টোয়ার্ট উইলসন নামের এক ব্রিটিশ নাগরিককে আগেই বিয়ে করেছেন। ২০০২ সালে বিদিশা লন্ডনে ভ্রমণ করেছিলেন। সেই সময়ের পার্সপোর্টে বিদিশা সিদ্দিক উইসলন নামের ব্যক্তিকে তার স্বামী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সেটি জানার পরই বিদিশা সিদ্দিকের সঙ্গে বিয়ে ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন এরশাদ। সেই বছরের ৩ জুন বিদিশাকে তালাক দেন এরশাদ এবং জাতীয় পার্টির সবধরনের পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। যদিও বিদিশার আইনজীবী জানিয়েছিলেন, বিদিশা ১৯৯৯ সালে উইলসনের সঙ্গে বিচ্ছেদ করেছিলেন।
২০০৫ সালের ৪ জুন গুলশান থানায় বিদিশার বিরুদ্ধে মামলা করেন জাতীয় পার্টির সাবেক চেয়ারম্যান এরশাদ। বিদিশার বিরুদ্ধে মোবাইল চুরি, অর্থের অপব্যবহার, স্বামীর সম্পত্তি বিনাশ এবং এরশাদের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ আনায় হয় মামলায়। ঐ মামলায় ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করা হয় সাড়ে ৭ লাখ।