এইচভি নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭:২৩, ৯ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২১:০২, ৯ আগস্ট ২০২৬
ছবি- সংগৃহীত
রোববার (৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামী আমীরের বাসায় অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় জোটের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরে প্রেস ব্রিফিংয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এই ঘোষণা দেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নিয়েছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার। ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন—এমডিপির কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, জাগপার রাশেদ প্রধান, খেলাফত মজলিসের মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী।
এর আগে, শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কে এই অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমেদ?
বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ উপজেলার চন্দনাইশ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন অলি আহমেদ। তার বাবার নাম আমানত ছাফা ও মায়ের নাম বদরুননেছা। তার স্ত্রীর নাম মমতাজ বেগম। তিনি দুই কন্যা সন্তানের বাবা। তিনি গাছবাড়িয়া নিত্যানন্দ গৌরচন্দ্র সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় হতে মাধ্যমিক পাশ করেন।
১৯৭১ সালে অলি আহমদ কর্মরত ছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে। এর অবস্থান ছিল চট্টগ্রামের ষোলশহরে। ২৫ মার্চ মধ্যরাতে `উই রিভোল্ট’ শব্দ উচ্চারণ করেন তিনি। প্রতিরোধযুদ্ধ শেষে ভারতে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার পর নিয়মিত মুক্তিবাহিনীর জেড ফোর্সের অধীনে যুদ্ধ করেন। স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্নেল পদে উন্নীত হন।
জিয়াউর রহমান বিএনপি গঠন করলে সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দান করেন অলি আহমেদ। তখন তার চাকরির আরো ৯ বছর বাকি ছিল। এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভাবে অংশ নেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি যোগাযোগ মন্ত্রী হন। যমুনা সেতুর কাজ তার সময়েই শুরু হয়।
দীর্ঘকাল বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত থাকার পর ২০০৬ সালের ২৬ অক্টোবর তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি এ.কিউ,এম, বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি গঠন করেন। এ.কিউ,এম, বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সাথে মতবিরোধের পর সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (বাংলাদেশ) প্রেসিডেন্ট।
মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা
১৯৭১ সালের ২০শে এপ্রিল অলি আহমদের নেতৃত্বে এক দল মুক্তিযোদ্ধা অবস্থান নেন চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাইয়ে। মুক্তিযোদ্ধারা সেখানে দুই ভাগে ছিলেন এবং সামনে ও পেছনে ছিল তাদের প্রতিরক্ষা। সম্ভাব্য যুদ্ধের সব ব্যবস্থা দ্রুত সম্পন্ন করে অলি আহমদ পার্শ্ববর্তী চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কে যান। তখন তিনি দেখতে পান, ফাঁকা রাস্তায় সীতাকুণ্ড থেকে তীব্র বেগে একটি জিপ আসছে। জিপে ছিলেন সিরাজুল ইসলাম এবং অন্য একজন। তারা দুজন অলিকে জানান, পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাদের দেখে ফেলেছে। দুই মিনিট পর অলি ফাঁকা রাস্তায় দেখতে পান পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি জিপ ও ট্রাকবহর আসছে এবং দুই শ গজ দূরে থেমে গুলি শুরু করে তারা। অলির ৫০ গজ দূরে মেশিনগান নিয়ে প্রস্তুত ছিলেন দু-তিনজন সহযোদ্ধা। তার নির্দেশে তারা পাকিস্তানি বহরের একদম পেছনের গাড়ি লক্ষ করে গুলি ছোড়ে। পাঁচ গজের মধ্যে এলএমজি নিয়ে পজিশনে ছিলেন তার আরেক যোদ্ধা। তিনি তাকে বলেন জিপ লক্ষ করে গুলি করতে। গজ বিশেক দূরে ছিল মর্টার দল। তারা মাঝের ট্রাক লক্ষ করে মর্টারের গোলাবর্ষণ করে। তিনি নিজে রিকোয়েললেস রাইফেল দিয়ে পাকিস্তানিদের মোকাবেলা করেন। আরআরের ছিল মাত্র দুটি গোলা। একটি আমগাছের ডালে লাগায় কোনো ক্ষতি হয়নি পাকিস্তানিদের। দ্বিতীয়টি সরাসরি আঘাত হানে ট্রাকে। খবর পেয়ে আরও পাকিস্তানি সেনা সেখানে আসে এবং যুদ্ধে যোগ দেয়। রাত ১০টা পর্যন্ত যুদ্ধ চলে। অলি আহমদ দক্ষতা ও সাহসিকতার সঙ্গে কম পরিমাণ অস্ত্র এবং সহযোদ্ধা নিয়ে পাকিস্তানিদের মোকাবিলা করেন। মু্ক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ সাহসীকতার জন্য তিনি 'বীর বিক্রম' উপাধীতে ভূষিত হন।
অলি আহমেদ বা কর্নেল অলি নামে অধিক পরিচিত। তিনি একাধারে একজন বাংলাদেশী মুক্তিযোদ্ধা, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী।