এইচভি নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩:৫০, ১৭ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২৩:৫২, ১৭ আগস্ট ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
এসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে আদিতমারী উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের একাংশ।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল ৫টায় আদিতমারী উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব সালেকুজ্জামান প্রামাণিক।
সালেকুজ্জামান প্রামাণিক বলেন, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে রোকন উদ্দিন উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন না।
নিজের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে তিনি দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এতে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে এলাকায় বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, জাতীয় পার্টি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন মহলের সঙ্গে যোগসাজশ করে রোকন উদ্দিন নিজের মতো করে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে কোনো নথি বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
নেতারা অভিযোগ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রোকন উদ্দিন দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে কোনো মূল্যায়ন সভা করেননি। এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেননি।
এর মধ্যে মঙ্গলবার বিকেলে আদিতমারী জিএস মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে কর্মী মূল্যায়ন সভার আয়োজন করা হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির একাংশের দাবি, দলীয় কেন্দ্র ও রংপুর বিভাগীয় পর্যায়ের নির্দেশনা এবং স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা না করেই সভাটি আয়োজন করা হচ্ছে।
দলের নাম ব্যবহার করে এ ধরনের সভা আয়োজনকে সাংগঠনিক বিধিবিধানের পরিপন্থী বলেও অভিযোগ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে ১৫ আগস্টের একটি ঘটনাও তুলে ধরা হয়।
নেতাদের অভিযোগ, খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠান সকাল ১১টায় শেষ হয়। পরে নেতৃবৃন্দকে না জানিয়ে রোকন উদ্দিনের নির্দেশে দুপুরে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙে আরেকটি সভা করা হয়।
এ ঘটনায় তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, রোকন উদ্দিন নিজের অনুসারী তৈরি করে আদিতমারী বিএনপিকে বিভক্ত করার চেষ্টা করছেন। এর মাধ্যমে দলের সাংগঠনিক কাঠামো দুর্বল হচ্ছে।
দুর্নীতি, অনিয়ম ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ তদন্ত করে রোকন উদ্দিনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান নেতারা।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল।
তিনি বলেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তোলা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে তার আয়োজিত কর্মী মূল্যায়ন সভা বানচাল করতেই সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।
রোকন উদ্দিন বলেন, সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অধিকাংশ ব্যক্তি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কৌশলে তার বিরোধিতা করেছিলেন। তারা চেয়েছিলেন, তিনি যেন সংসদ সদস্য নির্বাচিত না হন।
এখন তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় তারা নানা অজুহাতে তার বিরোধিতা করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
লালমনিরহাট-২ আসনটি আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. ফিরোজ হায়দারকে পরাজিত করে রোকন উদ্দিন বাবুল সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
সংবাদ সম্মেলনে লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নাদিরুল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি আবু ইয়াহিয়া ইউনুছ আহম্মেদ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হাসানুল বান্না, সদস্যসচিব আবু বাক্কার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শাহারিয়ার আলম এবং উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবদুল হালিমসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি ও রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলুর বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।