এইচভি নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮:৪২, ১৮ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ০৮:৪২, ১৮ আগস্ট ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাবির মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও ডাকসুর এজিএস মুহা. মহিউদ্দিন খান।
সংবাদ সম্মেলনে মহিউদ্দিন খান অভিযোগ করেন, হলের খাবারের মান নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনামূলক পোস্ট দেওয়ার পর এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে প্রভোস্টের কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে দীর্ঘ সময় আটকে রেখে মানসিকভাবে চাপ ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে ছাত্রত্ব ও হলের সিট বাতিল এবং সাইবার মামলার হুমকি দিয়ে তার কাছ থেকে লিখিত বক্তব্যে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
শিবির সভাপতি আরও বলেন, ওই শিক্ষার্থীকে হল সংসদের কয়েকজন নেতার প্ররোচনায় ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার কথা লিখতে বাধ্য করা হয়। ঘটনার বিষয়টি যাতে বাইরে প্রকাশ না পায়, সে জন্যও তাকে চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার পর শিক্ষার্থী ও হল সংসদের প্রতিনিধিরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাইলেও তা দেখানো হয়নি বলে দাবি করেন মহিউদ্দিন। তার অভিযোগ, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করানোর পরও সংশ্লিষ্টরা ফুটেজ প্রদর্শন করেননি।
এদিকে, ১৬ আগস্ট রাতে প্রভোস্টকে তার কার্যালয় থেকে বের করে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। শিবিরের অভিযোগ, এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান। এতে হলের ভিপি আবু নাঈম, জিএস ইমামুল হাসান ও পাঠকক্ষ সম্পাদক মো. তায়েফসহ কয়েকজন আহত হন। আহতদের কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
ছাত্রদলের ভূমিকার সমালোচনা করে মহিউদ্দিন খান বলেন, কোনো শিক্ষার্থীর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে ছাত্রসংগঠন হিসেবে তার পাশে দাঁড়ানো উচিত। কিন্তু শিক্ষার্থীদের পাশে না দাঁড়িয়ে ছাত্রদল প্রভোস্টকে রক্ষার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শিবিরের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—প্রভোস্টকে প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া, শিক্ষার্থীকে হেনস্তার ঘটনায় জড়িত হল কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করা, সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও পর্যালোচনা করে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় ও ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিতে কোনো ছাত্রসংগঠন যাতে পেশিশক্তি প্রয়োগ করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের লিখিত নিশ্চয়তা দেওয়া।