ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২ আশ্বিন ১৪৩৩, ০৪ রবিউস সানি ১৪৪৮

চাঁদা না দেওয়ায় রিসোর্ট দখল, ছাত্রদল নেতাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

এইচভি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০০:০৭, ১৯ আগস্ট ২০২৬

চাঁদা না দেওয়ায় রিসোর্ট দখল, ছাত্রদল নেতাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি: সংগৃহীত

১০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় কক্সবাজার শহরের পর্যটন জোনের লাইট হাউজ এলাকায় একটি রিসোর্ট জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ছাত্রদল নেতাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার দ্বিতীয় আসামি মাহফুজ শাকিল (৪০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে রিসোর্টটির মালিক ইসরাত জাহান বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলাটি করেন। মামলায় লাইট হাউজ এলাকার আল-আমিনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তিনি ছাত্রদল নেতা হিসেবে পরিচিত। মামলার অন্য আসামিরা হলেন বদরুল হাসান মিল্কী, আশিকুল ইসলাম ও আরিফ। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, সোমবার ভোররাত ৩টার দিকে নকশী রিসোর্ট দখলের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় করা মামলায় মাহফুজ শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, আসামিরা কলাতলী ও আশপাশের এলাকার বিভিন্ন হোটেলসহ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা আদায় করেন। চাঁদা না দিলে ব্যবসায়ীদের হয়রানি ও জবরদখলের হুমকি দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তারা দীর্ঘদিন ধরে তার মালিকানাধীন নকশী রিসোর্ট দখলের চেষ্টা করছিলেন। কয়েক দিন ধরে রিসোর্টে ব্যবসা করতে হলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দেওয়ার দাবি করা হচ্ছিল।

এজাহারে বলা হয়, দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় আসামিরা রিসোর্টে থাকা চারটি ফ্ল্যাট ও নিচতলার প্রায় ৮০০ বর্গফুটের একটি দোকান জবরদখল করেন। পাশাপাশি চাঁদা না দিলে ব্যবসা করতে না দেওয়া এবং তার রামু ক্যান্টনমেন্ট স্কুলে পড়ুয়া শিশুসন্তানকে অপহরণ করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এ বিষয়ে এর আগে থানায় তিন-চারটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

বাদীর অভিযোগ, সোমবার ভোররাতে তার অনুপস্থিতির সুযোগে আসামিরা আরও ১০-১২ জন সহযোগী নিয়ে নকশী রিসোর্টে প্রবেশ করেন। তারা রিসোর্টের সিসিটিভি ক্যামেরা ও বিভিন্ন আসবাব ভাঙচুর করে এবং রিসোর্টটি জবরদখল করেন।

এ সময় রিসোর্টের কর্মচারী আব্দু শুকুর বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে মারধর করে আহত করা হয়। তিনি ফোনে মালিককে বিষয়টি জানাতে চাইলে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তাকে রিসোর্ট থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া রিসোর্টের বিভিন্ন কক্ষে থাকা আটটি ৩২ ইঞ্চি স্যামসাং টেলিভিশনসহ মূল্যবান মালপত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। দাবিকৃত চাঁদার টাকা না দেওয়া পর্যন্ত রিসোর্ট দখলে রাখার এবং পুলিশকে জানালে হত্যার হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, নকশী রিসোর্ট দখলের ঘটনায় পাঁচজনকে এজাহারভুক্ত আসামি করে মামলা হয়েছে। মামলার দ্বিতীয় আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শহরের কোথাও দখলের ঘটনা ঘটলে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন